১১:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ ২৩ বছর পর প্যারোলে মুক্তি পেয়ে পিতার জানাজায় অংশ নিলেন মশিউর রহমান

আল আমিন মেহেরপুর।
  • প্রকাশ : ০২:০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 30

জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।

আল আমিন মেহেরপুর।

দীর্ঘ ২৩ বছর কারাবাসের পর প্যারোলে মুক্তি পেয়ে পিতার জানাজায় অংশ নিয়েছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মশিউর রহমান (মশা)। শুক্রবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) ভোরে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জুগিন্দা গ্রামের বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করেন।

নিহত মনিরুল ইসলামের মেজো ছেলে মশিউর রহমান (মশা) বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে মেহেরপুর জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০০৩ সালের ১০ নভেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে মশিউর রহমান তার আপন চাচা আমিরুল ইসলামকে প্রকাশ্যে ঘাস কাটার আশুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। ঘটনার পর স্থানীয় জনসাধারণ তাকে ঘটনাস্থলেই আটক করে গাংনী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুজ্জামানের কাছে হস্তান্তর করে।

এ ঘটনায় নিহত আমিরুল ইসলামের বড় ছেলে মো. শামিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে মেহেরপুরের বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালত মশিউর রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট প্রাণভিক্ষার আবেদন করলে রাষ্ট্রপতি তার আবেদন মঞ্জুর করে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।

শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে পিতা মনিরুল ইসলামের মৃত্যু হলে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগ ও ধানখোলা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানের সুপারিশে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিক্রমে মশিউর রহমানকে তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তিনি পিতার জানাজার নামাজে অংশগ্রহণ করেন এবং দাফন-কাফন সম্পন্ন করেন। নির্ধারিত সময় শেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তাকে পুনরায় মেহেরপুর জেলা কারাগারে হস্তান্তর করা হয়।ঘটনাটি এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

দীর্ঘ ২৩ বছর পর প্যারোলে মুক্তি পেয়ে পিতার জানাজায় অংশ নিলেন মশিউর রহমান

প্রকাশ : ০২:০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।

আল আমিন মেহেরপুর।

দীর্ঘ ২৩ বছর কারাবাসের পর প্যারোলে মুক্তি পেয়ে পিতার জানাজায় অংশ নিয়েছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মশিউর রহমান (মশা)। শুক্রবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) ভোরে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জুগিন্দা গ্রামের বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করেন।

নিহত মনিরুল ইসলামের মেজো ছেলে মশিউর রহমান (মশা) বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে মেহেরপুর জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০০৩ সালের ১০ নভেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে মশিউর রহমান তার আপন চাচা আমিরুল ইসলামকে প্রকাশ্যে ঘাস কাটার আশুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। ঘটনার পর স্থানীয় জনসাধারণ তাকে ঘটনাস্থলেই আটক করে গাংনী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুজ্জামানের কাছে হস্তান্তর করে।

এ ঘটনায় নিহত আমিরুল ইসলামের বড় ছেলে মো. শামিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে মেহেরপুরের বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালত মশিউর রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট প্রাণভিক্ষার আবেদন করলে রাষ্ট্রপতি তার আবেদন মঞ্জুর করে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।

শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে পিতা মনিরুল ইসলামের মৃত্যু হলে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগ ও ধানখোলা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানের সুপারিশে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিক্রমে মশিউর রহমানকে তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তিনি পিতার জানাজার নামাজে অংশগ্রহণ করেন এবং দাফন-কাফন সম্পন্ন করেন। নির্ধারিত সময় শেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তাকে পুনরায় মেহেরপুর জেলা কারাগারে হস্তান্তর করা হয়।ঘটনাটি এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেন।