নিখোঁজ সজীবের সন্ধান পেল গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ।
- প্রকাশ : ০১:৪৬:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
- / 3
জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।
জেলা প্রতিনিধি- গোপালগঞ্জ।
দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক সজীবের সন্ধান পেয়েছে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। পুলিশের নিরলস প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও সমন্বিত অভিযানের ফলে সজীবকে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সজীব গোপালগঞ্জ শহরের পুরাতন মানিকদাহ এলাকার বাসিন্দা। তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের স্থানীয়ভাবে তিনি পরিচিত মুখ।
দিনের অধিকাংশ সময় তিনি পুলিশ অফিস ও গোপালগঞ্জ সদর থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করতেন। পুলিশ বা ইউনিফর্ম পরিহিত কাউকে দেখলেই তিনি স্যালুট দিতেন, যা সবার কাছে তাকে বিশেষভাবে পরিচিত করে তুলেছিল। গত ১৫ মে ২০২৬ তারিখ থেকে সজীবকে আর পুলিশ অফিস কিংবা সদর থানার আশপাশে দেখা যাচ্ছিল না। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ২০ মে তার মা গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপরই সজীবের সন্ধানে মাঠে নামে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ।
তদন্ত চলাকালে কয়েকদিন পর ব্লগার আরিফ হায়দার একটি ভিডিয়ো ব্লগ প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায়, সজীব পুলিশের পোশাক পরিহিত অবস্থায় ঢাকার মগবাজার ফ্লাইওভারের এলাকায় ট্রাফিক ডিউটি করছেন বলে দাবি করছেন এবং নিজেকে “সজীব পুলিশ” হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। ভিডিয়োটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে গোপালগঞ্জ সদর থানার একটি বিশেষ টিম ঢাকায় ছুটে যায়। তারা মগবাজার, রমনা, পলটন, মালিবাগ, কাকরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনভর অনুসন্ধান চালায়। তবে ব্যাপক তল্লাশি সত্ত্বেও সজীবের কোনো সন্ধান মেলেনি।
ফলে হতাশ হয়েই পুলিশ সদস্যদের দলটি গোপালগঞ্জে ফিরে আসে। এদিকে ছেলের খোঁজ না পেয়ে সজীবের মা বারবার গোপালগঞ্জ সদর থানায় এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে গিয়ে আকুতি জানান। তার কান্না ও উদ্বেগ পুলিশ সদস্যদের আরও মানবিকভাবে বিষয়টি দেখার অনুপ্রেরণা জোগায়। সজীবকে খুঁজে বের করতে গোপালগঞ্জ সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নয়ন চন্দ্র দেবনাথ রাজধানীর রমনা, শাহবাগ, পলটন ও মতিঝিলসহ একাধিক থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সজীবের বর্ণনা ও তথ্য সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে পাঠানো হয়।
পাশাপাশি, ঢাকার মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিউজ পোর্টালে সজীবের সন্ধান চেয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয় এবং ডিএমপি কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে ট্রাফিক ও ক্রাইম বিভাগে ওয়্যারলেস বার্তা পাঠানো হয়। এছাড়া পূর্বে সজীবকে নিয়ে ভিডিয়ো প্রকাশকারী ব্লগার আরিফ হায়দারের সঙ্গেও যোগাযোগ করে তার মাধ্যমে সম্ভাব্য তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন সজীবের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ধারাবাহিক অনুসন্ধান ও দূরদর্শী পদক্ষেপের ফল মেলে। গত ২৪ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেলে সজীবের সন্ধান পাওয়া যায়।
পরে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সজীবকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তার মা ও পরিবারের সদস্যরা। এ সময় গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ফুল দিয়ে সজীবকে বরণ করে নেয় এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার পুনর্মিলনের আনন্দ ভাগাভাগি করে। গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তারা সজীবকে খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। পুলিশের প্রত্যাশা, সজীব ও তার পরিবার ভবিষ্যতে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে জীবনযাপন করবে।
স্থানীয়দের মতে, সজীবকে উদ্ধারে পুলিশের এই আন্তরিক উদ্যোগ মানবিক পুলিশিংয়ের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।



















